আফগানিস্তানে গভীর রাতে দুটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে ২২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে কাবুলের দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আলজাজিরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অপারেশন গজব লিল হক’-এর অংশ হিসেবে আফগানিস্তানে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর আস্তানা ও প্রশিক্ষণশিবিরে ‘সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত’ হামলা চালানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুনার ও হেলমান্দে দুটি স্থানে হামলা চালিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে থাকা বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে।
তবে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কুনার ও হেলমান্দে চালানো হামলায় তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকে আগ্রাসন ও অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান তিনি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ডে থাকা নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি জানিয়ে আসছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালায়। তবে কাবুল এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনায় তৈরি এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত আফগান তালেবানের টিটিপিকে অব্যাহত সমর্থন পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ও প্রাণঘাতী মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে কাবুল গোষ্ঠীটিকে নিয়ন্ত্রণে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপও নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।