ব্যাংকক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, বৈদেশিক অর্থায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণসহায়তা ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলোতে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা চলছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার বিষয়ে আশাবাদী সরকার।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলোচনা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকের কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের সংকট এবং বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে চলমান আলোচনা থেকে নতুন অর্থায়ন বা ঋণসহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও সময় লাগবে।
মুহাম্মদ আশিকুল আলম
সম্পাদক
দ্যা মিরর নিউজ
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।