শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

সাংবাদিকতার পথচলায় কিছু প্রশ্ন আর আত্মজিজ্ঞাসা

সাংবাদিকতার পথচলায় কিছু প্রশ্ন আর আত্মজিজ্ঞাসা
সাংবাদিকতার পথচলায় কিছু প্রশ্ন আর আত্মজিজ্ঞাসা
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ০৪:১০ অপরাহ্ন

সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই পরিচয় অর্জিত হয়েছে বহু সাংবাদিকের নিষ্ঠা, সততা ও ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরার দীর্ঘ চর্চার মধ্য দিয়ে। তবু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রবণতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে—কিছু সহকর্মীর বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা, পেশার পরিচয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মিশ্রণ, এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার, নিরপেক্ষ ও সহমর্মী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।

সাংবাদিকতা মূলত মানুষের হয়ে সত্য অনুসন্ধানের কাজ। এই কাজ সবসময় সহজ নয়—অনেক সময় সাংবাদিকরা কঠিন পরিস্থিতিতে, সীমিত সম্পদ নিয়ে, নানা চাপের মধ্যে কাজ করেন। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমাদের বলতে হয়—পেশার ভেতরে কিছু প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে ভাবনা প্রয়োজন। কেউ কেউ হয়তো পরিস্থিতির চাপে বা সংকীর্ণ সুযোগ-সুবিধার লোভে এমন পথে হাঁটছেন, যা সাংবাদিকতার মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যারও প্রতিফলন—গণমাধ্যম শিল্পে কর্মপরিবেশ, পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তার ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি আমাদের দুটি দিক থেকে দেখা দরকার। একদিকে, সত্য প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি—সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে অনিয়ম বা অসততার প্রমাণ পাওয়া যায়, সেখানে আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোই সমীচীন। এই দুই বাস্তবতাকে আলাদাভাবে বোঝা এবং যাচাই-বাছাই করে দেখাটাই ন্যায্য পথ—কাউকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ না করে, আবার প্রকৃত সমস্যাকে অস্বীকারও না করে

গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কিছুটা কমে আসছে বলে অনেকেই মনে করেন। এই উপলব্ধি শুধু কয়েকজন ব্যক্তির আচরণের ফল নয়, বরং সামগ্রিক গণমাধ্যম বাস্তুতন্ত্রের—মালিকানা কাঠামো, বিজ্ঞাপননির্ভরতা, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা—নানা দিকের সম্মিলিত প্রতিফলন। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর দায় চাপালে চলবে না; বরং প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে ভাবতে হবে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাংবাদিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে নৈতিক স্খলনের সুযোগ অনেকটাই কমে আসতে পারে।

প্রেস কাউন্সিল ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে—নীতিমালা তৈরিতে, প্রশিক্ষণে এবং প্রয়োজনে জবাবদিহি নিশ্চিত করায়।

যারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকতে চান, তাদের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও স্বচ্ছতা থাকা ভালো—যাতে পাঠকের কাছে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ, আর প্রকৃত অনিয়মের বিষয়ে খোলামেলা আত্মসমালোচনা—দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে।

সাংবাদিকতা একটি চলমান চর্চা, আর প্রতিটি পেশারই সময়ে সময়ে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন হয়। কীভাবে আমরা আরও দায়িত্বশীল, আরও বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি, সেই প্রশ্নই আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। এই যাত্রায় সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সংহতি অটুট থাকুক। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন করার—আমরা কার পক্ষে কলম ধরছি: সত্যের, নাকি সুবিধার?

সম্পাদক, দ্যা মিরর নিউজ।

 

 

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।