যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। ঐতিহাসিক এই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ঢাকা থেকে পাঠানো রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নেপালপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, সার্ক সচিবালয় ও আইসিমোডের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধি এবং নেপালের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বয়স, ধর্ম ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।
তিনি প্রশাসন, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, যুবসমাজের নেতৃত্বে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান থেকে সব অংশীজন, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক আমানউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সুশাসন, জনগণের মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি ছিল জবাবদিহিমূলক শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণকে কেন্দ্র করে মর্যাদাশীল, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত ও দুর্গতদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন। পরে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশি খাবারের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
ফজলে রাব্বী পলাশ || বিশেষ প্রতিনিধি, দ্যা মিরর নিউজ
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।