মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হলে বুধবারই (৫ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সমঝোতা হলে ‘আগামীকাল কিংবা পরদিনই’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া সম্ভব।
এর আগে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই প্রণালিটি খুলে দেয়া হবে। তা না হলে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এরপর প্রণালি খুলে দেয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংকটের একমাত্র পথ হলো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বর্তমানে এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে তেহরান। ইরান জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং টোল আদায়ের দাবি তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনায় এক নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। একই দিনে লোহিত সাগরে অজ্ঞাত হামলার পর একটি ভারতীয় জাহাজ ডুবে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *অ্যাক্সিওস* জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আঞ্চলিক কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ দিনের সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রও সম্পৃক্ত রয়েছে। অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, উত্তেজনা কমাতে তারা কূটনৈতিক মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে আগের অবস্থানেই রয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই রুটে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।