লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমকে পুনর্বহাল ঘিরে বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে প্রধান শিক্ষককে বাধা দেয় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল। তাঁকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন রশিদুল আলম। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়।
শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে নিজ পদে ফেরার নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধিতায় কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।
আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম জানায়, প্রধান শিক্ষককে ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় তাঁরা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তিনি বিদ্যালয়ে এলে বহিরাগতরা প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দিচ্ছিল। মঙ্গলবার যোগ দিতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।