রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশসংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময় আজ, থাকছে না জামায়াত-এনসিপিএসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরপারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় ১ হাজার ৩৯৯ ভূমিকম্পইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে: থাইল্যান্ডের বিআরএনচার দফা দাবি জানিয়ে দুই ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহারকোরআন হাতে ৬২ শিক্ষার্থী, বীরগঞ্জে ব্যতিক্রমী আয়োজনদিনাজপুরে ফুলবাড়ীতে ভোরের ফুটবলের উদ্যোগে ২০০ তালবীজ রোপণকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্নজয়পুরহাটে কাবাডিতে সদর থানার দ্বিমুকুট, নারী-পুরুষ দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়নপাবনায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুশ্রীবরদীতে পাচারের সময় ২৫ বস্তা সরকারি সার জব্দ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাদুর্গাপূজা ঘিরে সিরাজগঞ্জে পুলিশ-পূজা উদযাপন পরিষদের মতবিনিময়পাবনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানসবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিমচট্টগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ বলছে ‘গুজব’নিখোঁজের পর ভারত সীমান্তে মিলল বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহপাবনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মশাল মিছিলঅপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধলংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, জিএমপির কর্মকর্তা প্রত্যাহারযে ৩ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ইনুর

ফিরে দেখা ৩৬ জুলাই: দুই বছরে স্বপ্ন, সংকট ও পরিবর্তনের হিসাব

ফিরে দেখা ৩৬ জুলাই: দুই বছরে স্বপ্ন, সংকট ও পরিবর্তনের হিসাব
ফিরে দেখা ৩৬ জুলাই: দুই বছরে স্বপ্ন, সংকট ও পরিবর্তনের হিসাব
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৫, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলন, গণজাগরণ এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেশকে নিয়ে গিয়েছিল এক নতুন প্রত্যাশার পথে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ।

৩৬ জুলাই নামে পরিচিত এই সময়টি শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, বরং একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, বৈষম্য ও অধিকার সংকটের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় একটি বড় গণঅভ্যুত্থানে।

যেভাবে শুরু, যেভাবে বিস্তার

২০২৪ সালের জুনে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়। শুরুতে এটি ছিল শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের আন্দোলন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততায় রূপ নেয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর ব্যানারে চলা কর্মসূচি ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পর নতুন গতি পায়। তার মৃত্যু আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হতে শুরু করেন।

সরকারি পদক্ষেপ, দমন-পীড়ন, ইন্টারনেট বন্ধ এবং কারফিউ জারির মধ্যেও আন্দোলন থামানো যায়নি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক দফা দাবি ঘোষণা এবং ৫ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতা

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হয়।

গত দুই বছরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো রয়েছে নানা মত ও বিতর্ক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতায় পরিবর্তন আনাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় প্রত্যাশা।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মূল দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু দুই বছর পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে।

দ্রব্যমূল্যের চাপ, কর্মসংস্থান সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে অনেকের মধ্যে। আন্দোলনে অংশ নেয়া তরুণদের একটি অংশ মনে করছে, যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নামা হয়েছিল, তার পুরো বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।

একতার আন্দোলন, বিভক্ত বাস্তবতা

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে ছাত্রসমাজ এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছিল, সময়ের ব্যবধানে তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ভিন্ন অবস্থান। আন্দোলনের অনেক পরিচিত মুখ এখন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন।

কেউ সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন, কেউ আবার রয়েছেন নিজস্ব অবস্থানে। অনেকের মতে, জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে হলে ক্ষমতার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

সামনে কী?

দুই বছর পর ৩৬ জুলাই এখনো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। এটি যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের প্রতীক, তেমনি একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশারও প্রতিচ্ছবি।

শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নজুলাইয়ের যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ কতটা বাস্তবে রূপ পাবে?

কারণ কোনো গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়ন শুধু ক্ষমতার পালাবদলে হয় না; বরং নির্ধারিত হয় সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তার ওপর।

 

লেখক: যুবায়ের

দ্য মিরর নিউজ

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।