বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি: সংকট নয়, নীতিগত ব্যর্থতার আয়না

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি: সংকট নয়, নীতিগত ব্যর্থতার আয়না
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি: সংকট নয়, নীতিগত ব্যর্থতার আয়না
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৩, ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। কোটি মানুষের জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদেশগামী কর্মীদের ঘাম ও পরিশ্রম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন দেশে ভিসা সীমিত হওয়া এবং নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জটিলতা একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—বাংলাদেশ কি বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পেরেছে?

সমস্যার শুরু বিদেশে নয়; অনেকটাই দেশের ভেতরে।

বহু বছর ধরে জনশক্তি রপ্তানিকে একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক খাতের পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দালালচক্র, সীমিত স্বচ্ছতা, দুর্বল দক্ষতা উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আস্থা একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগে।

অন্যদিকে বিশ্বও বদলে গেছে। আজ উন্নত দেশগুলো শুধু শ্রমিক নয়, দক্ষ মানবসম্পদ খুঁজছে। স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, জাহাজশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিযোগী দেশগুলো ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ এখনও সেই গতিতে এগোতে পারেনি।

তবু সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনশক্তিকে যদি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং পেশাগত সনদে প্রস্তুত করা যায়, তবে নতুন শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা এবং দূতাবাসগুলোকে অর্থনৈতিক কূটনীতির কার্যকর কেন্দ্রে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে সমন্বিত সংস্কার ছাড়া এই খাতে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। জনশক্তি রপ্তানি কেবল শ্রমিক পাঠানোর বিষয় নয়; এটি একটি দেশের সুনাম, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রতিফলন।

 বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা। একটি—পুরোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া। অন্যটি—সংস্কার, দক্ষতা এবং সুশাসনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নতুন আস্থা তৈরি করা।

পছন্দটি বাংলাদেশের। কিন্তু সময় খুব বেশি নেই।

সম্পাদক. দ্যা মিরর নিউজ।

 121
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।