মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ২৪ ঘণ্টায় হামে ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১১৩স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি১৫ টাকায় ছয় মাসে ৩০ কেজি চাল পাবেন ৫৫ লাখ কার্ডধারী৫ আগস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআগস্টে ১২ দিন বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেপ্টেম্বরে ছুটি ১১ দিনজামায়াতে গেলে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, কর্নেল অলি তার নিকৃষ্ট উদাহরণ: রাশেদ খাঁনপলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশপরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীরদক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎরোহিঙ্গা সহায়তায় আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার দেবে অস্ট্রেলিয়াকাঁচামরিচ আমদানি শুরু, দাম কমার আশাআদলতে ড্রোন হামলা: সুদানে ৩৫ জন নিহতইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ গেল ১৪ জনেরওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, সরিয়ে নেয়া হলো ৬০ হাজার মানুষপাকিস্তানে থানায় বোমা বিস্ফোরণে ১৭ জন নিহত'ব্রোড পিক’ থেকে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ অভিযাত্রীর মরদেহ উদ্ধারলটারির মাধ্যমে গণপূর্তের ২৫৪ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলিব্রাজিলের ভারত সফর নিয়ে ভুটিয়ার কটাক্ষ, ‘সংগ্রামী পরিবারের বিয়েতে শাহরুখকে নাচাতে আনার মতো’বক্স অফিসে হলিউড দানবদের মুখোমুখি শাহরুখভিডিও প্রকাশ করেও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না ভূমি পেডনেকরেরমেঘে ঢাকা রাজধানীর আকাশ, দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাপারিবারিক কবরস্থানের আড়ালে গাঁজা চাষ, গ্রেপ্তার ১গুমের কারণে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডনিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আইওএমের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশবাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি: সংকট নয়, নীতিগত ব্যর্থতার আয়নাবিশ্বমানের পর্যটন খাত গড়তে কাজ করছে সরকার: পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমবেনজীরের জামিন বাতিলে উদ্যোগ, অন্য পাসপোর্টের সন্দেহ

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব প্রদর্শনী

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব প্রদর্শনী
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব প্রদর্শনী
সর্বশেষ উপলব্ধ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

"বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি" শীর্ষক এক বিশেষ আম উৎসবের আয়োজন করেছে ঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ আমের ঐতিহ্য, অনন্য গুণগত মান বৈচিত্র্যময় স্বাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়।

 ২৬ জুলাই (রবিবার) কাঠমান্ডুস্থ  দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ (UTSAV Kunja) ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজনে বাংলাদেমরে তাজা ফল মূল্যসংযোজিত প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

 অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান কৃষি কৃষি পণ্য  ভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আম কেবল একটি ফল নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি এবং জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুঘল আমলের ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের উৎকৃষ্টতম আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন যে খিরসাপাত (হিমসাগর), হারিভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, বানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌরমতি এবং বারি আমসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম তাদের অতুলনীয় মিষ্টতা, অনন্য সুবাস, উচ্চমান এবং পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী গবেষকেরা দেরিতে মৌসুমের পরেও ফলনশীল বিভিন্ন নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি কিছু জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি দেশের বেসরকারি খাতের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার, ডেজার্টসহ নানা ধরনের মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমের ঐতিহ্য স্বাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলের আম আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে অভিনন্দন জানান এবং কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বাংলাদেশ দূতাবাসকে ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের আন্তরিকতা আতিথেয়তার পরিচয় বহন করে না, বরং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জনগণের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের "ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি" উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্প্রীতি বন্ধুত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্যে ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আমের পাশাপাশি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত নানাবিধ পণ্য একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। অতিথিরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, বৈচিত্র্য রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের আধুনিক উদ্যানতত্ত্ব, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের একজন সফল আমচাষি জনাব রফিকুল ইসলাম গেল ১৫ বছরের তার আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।

এই উৎসব শুধু বাংলাদেশের কৃষি সাফল্যের উদযাপনই নয়, বরং বাংলাদেশ নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আম আমজাত পণ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই দেশের রপ্তানিকারক আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক কৃষি খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ সুগম করেছে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের আমের অসাধারণ স্বাদ, গুণগত মান বৈচিত্র্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ নেপালের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, "বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি"-এর মতো উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

উৎসবে বাংলাদেশের রাজশাহীর মৌসুমের পরে দেরিতে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম, যেমনফজলি, আম্রপালি, বারি-, কাটিমন, গৌরমতি, আশ্বিনা প্রভৃতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত আমপণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ধরনের আমের ডেজার্ট পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং Beautiful Bangladesh-এর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

প্রায় ২৫০ জন অতিথি, যার মধ্যে ফল ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফজলে রাব্বী পলাশ/বিশেষ প্রতিনিধি/মি.

 130
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।