সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারেও যাবে পুলিশ: আইজিপিসব বিভাগে ৮টি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সাক্ষাৎ৯ মাসে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের শিকার ১০৯ শিশু: জেএমবিএফচার দিনের সরকারি সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানমিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামানট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় ইরানে হামলায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএনআসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় কাতারে প্রতিবাদ সভাব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার জয়, ফল প্রত্যাখ্যান ফ্লাভিওরনেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনায় আপত্তি সেনাপ্রধানেরনিকি মিনাজের নিতম্বের প্রশংসায় ট্রাম্প, বললেন ‘এমন সুন্দর আগে দেখিনি’আদালতে যাওয়ার পথে রাহুল গান্ধীর গাড়িবহরে দুর্ঘটনানির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদোপুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জে মামলা, গ্রেপ্তার ৭কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৮ ইউনিটবিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলা: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি আজজাপান সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে!

জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে!

জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে!
জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে!
সর্বশেষ উপলব্ধ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ০২:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন বৈদেশিক মুদ্রার চাপ। বিনিয়োগের ধীরগতি। কর্মসংস্থান সংকট এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ঠিক এমন সময়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের এই সফরে ঢাকার প্রত্যাশা শুধু নতুন ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া নয়। বরং পুরোনো উন্নয়ন সহযোগিতার শর্ত সহজ করা। জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো। বাংলাদেশের পণ্যের জন্য আরও বড় বাজার তৈরি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।

কিন্তু এই সফরে আসল হিসাবটি কোথায়। জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। আবার বাংলাদেশও জাপান থেকে বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি। শিল্পের কাঁচামাল। যানবাহন এবং প্রযুক্তিপণ্য আমদানি করে। ফলে সম্পর্কের একদিকে রয়েছে উন্নয়ন অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা। অন্যদিকে রয়েছে ঋণ পরিশোধের দায়। বাণিজ্য ঘাটতি এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন।

নতুন অর্থায়নের প্রত্যাশা কতটা

সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের জন্য প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং অবকাঠামো। জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয় থাকতে পারে। তবে সফরের আগে এসব অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছিল। চূড়ান্ত চুক্তি বা অর্থ ছাড়ের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এগুলোকে নিশ্চিত অর্থপ্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এখানে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো। নতুন অর্থায়ন কতটা সহজ শর্তে পাওয়া যাবে। সুদের হার কত হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কত দীর্ঘ হবে এবং অর্থ ছাড়ের আগে কী ধরনের শর্ত পূরণ করতে হবে।

জাপানের উন্নয়ন সহায়তার বড় বৈশিষ্ট্য হলো তুলনামূলক সহজ শর্তের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। জাপানে বাংলাদেশের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী। দেশটির উন্নয়ন ঋণে সুদের হার তুলনামূলক কম এবং পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিছু ঋণে মূলধন পরিশোধ শুরুর আগে ১০ বছরের অবকাশকালও থাকে। তবে সব ঋণের শর্ত এক নয়। প্রকল্প এবং চুক্তি অনুযায়ী শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু কত বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেল তা নয়। সেই অর্থের বিনিময়ে ভবিষ্যতে কত টাকা সুদ দিতে হবে। কত বছরে মূলধন ফেরত দিতে হবে এবং প্রকল্প থেকে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক সুফল আসবে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোনো ঋণের সুদ কমানো কি সম্ভব

এই সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে পুরোনো জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। ঢাকা ও টোকিও জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে।

এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের সুদ কমানো গেলে ভবিষ্যতের সুদ পরিশোধের ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করবে কোন ঋণের সুদ কমানো হবে। কতটা কমানো হবে এবং পরিবর্তিত শর্তে কত অর্থ বাকি থাকবে তার ওপর।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হলেও জাপানের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর থেকে মোট কত উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কত ঋণ বকেয়া রয়েছে—দুটি আলাদা হিসাব।

জাপানে বাংলাদেশের দূতাবাসের ২০২৬ সালের এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৩৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে। এই অঙ্কের মধ্যে ঋণ। অনুদান এবং কারিগরি সহায়তা রয়েছে। তাই পুরো অর্থকে বাংলাদেশের বর্তমান ঋণ হিসেবে দেখানো যাবে না।

একই তথ্য অনুযায়ী। বাংলাদেশে জাপানের সহায়তায় ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে ২৮টি ঋণ প্রকল্প। ১১টি অনুদান প্রকল্প এবং ৩৮টি কারিগরি সহযোগিতা প্রকল্প রয়েছে। ফলে ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনা করা হলে কোন প্রকল্পের জন্য কী ধরনের অর্থায়ন হয়েছে তা আলাদা করে দেখতে হবে।

বাণিজ্যে বাংলাদেশের পাওনা কোথায়

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসামঞ্জস্য রয়েছে। বাংলাদেশ জাপানে পোশাক রপ্তানি করে। চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যও পাঠায়। কিন্তু জাপান থেকে আমদানি করে শিল্পের যন্ত্রপাতি। লোহা ও ইস্পাত। যানবাহন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য।

জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রকাশিত বাণিজ্যতথ্য অনুযায়ী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে আমদানি করেছে প্রায় ১ দশমিক ৯১৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল প্রায় ৫০৩ মিলিয়ন ডলার।

এই ঘাটতি একা কোনো সংকটের প্রমাণ নয়। কারণ জাপান থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও শিল্পের উপকরণ বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় না বাড়লে এবং আমদানির ব্যয় বেশি থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত জাপানে শুধু তৈরি পোশাক বিক্রি বাড়ানো নয়। বরং চামড়াজাত পণ্য। পাট ও পাটজাত পণ্য। তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। উচ্চমূল্যের পোশাক এবং অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা।

নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুযোগ

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ সই হয়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হলো। চুক্তির সুবিধা বাস্তবে কত দ্রুত কাজে লাগানো যাবে। জাপানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়লেই রপ্তানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। জাপানি ক্রেতাদের মানদণ্ড। পণ্যের নিরাপত্তা। সরবরাহের ধারাবাহিকতা। সময়মতো পণ্য পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাকের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। জাপানের বাজারে এই নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য প্রবেশ করাতে পারলে রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে।

সরকারের উচিত জাপানি আমদানিকারক এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো। ইপিএর অধীনে কোন পণ্য কী সুবিধা পাবে। কোন নিয়ম মানতে হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কীভাবে বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন—এসব বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেয়া।

৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের খবর

জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমও খবরটি তুলে ধরেছে।

এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের গুরুত্ব অনেক। কারণ বিদেশি বিনিয়োগ এলে নতুন কারখানা। কর্মসংস্থান। প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এখানে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের পরিকল্পনা বা লক্ষ্যমাত্রা মানেই পুরো অর্থ বাংলাদেশে চলে এসেছে—এমন নয়।

কত অর্থ কোন খাতে বিনিয়োগ হবে। কোন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পের জমি ও অনুমোদন কীভাবে হবে। কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং কত অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দরকার।

বাংলাদেশের জন্য এই বিনিয়োগকে বাস্তবায়নে রূপ দিতে হলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। জমি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে। কাস্টমস ও করসংক্রান্ত নিয়ম সহজ করতে হবে। নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি ও মাতারবাড়ি কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র জ্বালানি এবং সমুদ্রবন্দর অবকাঠামো। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রস্তাবিত আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতা এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের বিষয় রয়েছে। জাপানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জেরা জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রকল্পের নির্দিষ্ট অর্থায়ন ও চুক্তির বিষয়গুলো সরকারি ঘোষণা দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অর্থনীতির বড় প্রশ্ন। আমদানিনির্ভর জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বাড়ে। তাই জাপানের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতায় শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়। জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। ব্যয় কমানো। মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

জাপান কী চাইতে পারে

বাংলাদেশের প্রত্যাশা যেমন রয়েছে। তেমনি জাপানেরও নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। টোকিও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার বিষয়গুলোও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

জাপানি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নীতির ধারাবাহিকতা। দক্ষ কর্মী এবং সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো। শুধু বিনিয়োগের আহ্বান জানালেই হবে না। বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। বড় শ্রমশক্তি এবং উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বন্দর। সড়ক। বিদ্যুৎ। দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে আসল পরীক্ষা

তারেক রহমানের জাপান সফরকে শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য বা নতুন অর্থসহায়তা পাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। এই সফরের মূল্যায়ন করতে হবে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে।

প্রথমত। পুরোনো ঋণের সুদ কমানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত। নতুন আর্থিক সহায়তা কত ডলার এবং কী শর্তে দেয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত। পাঁচ বছরে সম্ভাব্য ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য কোন কোন প্রকল্প চিহ্নিত হয়েছে। চতুর্থত। ইপিএর সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ কত দ্রুত রপ্তানি বাড়াতে পারবে। পঞ্চমত। জ্বালানি ও মাতারবাড়ি প্রকল্পে নতুন অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি কী।

এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু সমঝোতা স্মারক বা যৌথ বিবৃতি দিয়ে সফরের সাফল্য পরিমাপ করা যাবে না। চুক্তির অর্থ ছাড়। বিনিয়োগের বাস্তবায়ন। রপ্তানির প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় কমানো—এসবই হবে প্রকৃত ফলাফলের সূচক।

বাংলাদেশের সামনে তাই জাপানের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগের সুফল পেতে হলে নতুন অর্থায়নের পাশাপাশি পুরোনো দায়ের হিসাবও বুঝতে হবে। ঋণের শর্ত সহজ করতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।

শেষ পর্যন্ত চার দিনের এই সফরের সাফল্য নির্ভর করবে একটি প্রশ্নের উত্তরের ওপর। বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে কত অর্থের প্রতিশ্রুতি পেল—শুধু সেটি নয়। বরং এই সফরের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হবে। কত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কত রপ্তানি বাড়বে এবং ভবিষ্যতের ঋণের বোঝা কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মুহাম্মদ আশিকুল আলম

সম্পাদক, দ্যা মিরর নিউজ।

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।