চলতি বছর বাংলাদেশিদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজার হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৬১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন, যা মোট বিদেশগামী কর্মীর ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
২০২৫ সালে ৭০ হাজার ৮৩২ জন বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। একই সময়ে দেশটি থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটিকে বাংলাদেশের দশম বৃহত্তম রেমিট্যান্স উৎসে পরিণত করেছে।
তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সিঙ্গাপুরের নীতিতে কড়াকড়ির ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেছেন, বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো হলেও তা ‘সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে’ করা হবে। দেশটি প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার ওপর বেশি নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে।
মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে স্বল্প ও অর্ধদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমে দক্ষ ও উচ্চদক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
এদিকে সিঙ্গাপুর যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, প্রকৃত খরচ ৪-৫ লাখ টাকা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার।
সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি থাকায় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা এখনো রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বাংলাদেশের কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।