বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা, ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-গভর্ন্যান্স, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষা এবং অ্যাপভিত্তিক সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তন অর্থনীতিতে গতি এনেছে, নতুন পেশা তৈরি করেছে এবং বহু মানুষের জন্য সেবা পাওয়ার পথ সহজ করেছে।
কিন্তু ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রযুক্তি নয়—আস্থা।
মানুষ যদি অনলাইনে টাকা পাঠাতে ভয় পান, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন, প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিকার না পান, অথবা ই-কমার্সে পণ্য অর্ডার করে ভিন্ন পণ্য পান—তাহলে প্রযুক্তির প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়। আর বিশ্বাস নষ্ট হলে ডিজিটাল সেবার বিস্তারও থেমে যায়।
সাইবার প্রতারণা এখন একটি বড় বাস্তবতা। ভুয়া কল, ফিশিং লিংক, নকল ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট, বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি—এসবের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতারক চক্র প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে, অথচ নাগরিক সুরক্ষা ও ডিজিটাল সচেতনতা সেই গতিতে বাড়ছে না।
ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহক সুরক্ষার সুস্পষ্ট ব্যবস্থা দরকার। অভিযোগ জানানো সহজ হতে হবে, দ্রুত তদন্ত হতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যেন কার্যকর প্রতিকার পান। ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নাগরিকের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন আচরণ কোনো প্রতিষ্ঠানের অবাধ বাণিজ্যিক সম্পদ হতে পারে না। তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে স্পষ্ট নিয়ম এবং জবাবদিহি থাকতে হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ কিংবা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রযুক্তি নাগরিককে আরও নিরাপদ, ক্ষমতাবান ও মর্যাদাপূর্ণ করবে। সহজে সেবা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিরাপদে সেবা পাওয়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে একটি প্রশ্ন—মানুষ কি এতে বিশ্বাস রাখতে পারছেন? সেই আস্থা রক্ষা করা না গেলে প্রযুক্তির অগ্রগতি কেবল পরিসংখ্যান হয়ে থাকবে।
মুহাম্মদ আশিকুল আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রকাশক ও সম্পাদক, দ্যা মিরর নিউজ।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।