আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতে সাময়িক বিরতি এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার প্রভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠককে ঘিরে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসার প্রভাব।

সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯ দশমিক ৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০ দশমিক ৮০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যানের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আপাতত থেমে থাকায় সপ্তাহের শুরুতেই মূল্যবান ধাতুর বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, আর মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ডও কিছুটা নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু থাকার সম্ভাবনা তৈরি করে। যদিও স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবুও সুদের হার বেশি থাকলে এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে নিয়মিত কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।
শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ১৫ ডলার হয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৩১ দশমিক ২০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৪ ডলারে।
অন্যদিকে, দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।