সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পেনশন খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বেড়ে ৫০ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এতে জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা করছে জাতীয় বেতন কমিশন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার এবং নতুন কর্মচারীদের জন্য চাঁদাভিত্তিক পেনশন চালুর সুপারিশ করেছে কমিশন।
কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রতিবছর গড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ লাখ ১৬ হাজার পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হতে পারে ৩৪ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পেনশনভোগীর সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখ ৪৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পেনশন সুবিধা পান। চাকরির সময় তাঁদের পেনশন তহবিলে চাঁদা দিতে হয় না। অবসরের পর সর্বশেষ মূল বেতনের ৯০ শতাংশের ভিত্তিতে মাসিক পেনশন দেয়া হয়। প্রায় ৯০টি স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের সুবিধা চালু রয়েছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কমিশন কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের নিয়মিত চাঁদায় পেনশন তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এ তহবিলের অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে অর্জিত আয় থেকে অবসরকালীন সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে চাঁদাভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। কর্মচারীদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমার পাশাপাশি সরকারও সমপরিমাণ অর্থ দেবে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নতুন কর্মীদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে কমিশন।
এ ছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য তহবিলভিত্তিক পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কমিশনের প্রতিবেদনে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।