গাজীপুরের চার উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের পরিমাণ ও কৃষকদের তালিকা নিয়ে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। একই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হেনস্তা, মোবাইল ফোন আটকে রাখা, ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের তথ্য যাচাইয়ের সময় সরকারি হিসাব, কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কৃষকদের অভিজ্ঞতায় গরমিল পাওয়া গেছে।
শ্রীপুরে ধান সংগ্রহের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক পর্যায়ে ১১ জন কৃষকের কাছ থেকে ১১ টন ধান সংগ্রহের তথ্য দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট এলএসডির এক কর্মকর্তার বক্তব্যে ৩২ থেকে ৩৩ টন ধান সংগ্রহের কথা এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আবার তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন কৃষক সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রি করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন কি না, তালিকাভুক্ত কৃষকদের নামে দেখানো হিসাবের সত্যতা এবং গুদামের মজুত যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগে প্রতি মণ ধানের সরকারি দর ১ হাজার ৪৩৬ টাকা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মৌসুমের সরকারি প্রজ্ঞাপন যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিককে হেনস্তা এবং তাঁর ইনফিনিক্স ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। একটি আইফোন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই সাংবাদিক।
সাংবাদিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সদর থানায় ১৪৮৪ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সরকারি ধান সংগ্রহের হিসাব এবং সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সরকারি নথি, ক্রয় রসিদ, গুদামের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
গাজীপুর প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।