বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
শিশু অধিকার দিবসের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী, বরণ করে নিল ১৫০ শিশুপ্রথমবার লটারিতে সাবরেজিস্ট্রার বদলিপ্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রীসৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে শ্রীলঙ্কান তরুণ, ক্ষমার জন্য পরিবারের আকুতিএলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিসিদের নির্দেশচার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ‘আমাদের কাছে সবই আছে, নিরাপত্তা নেই’: কুবি উপাচার্যবাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির১৯ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য জরুরি সতর্কতা, বন্ধ থাকবে যেসব সেবামহাকাশের নিউট্রিনো রহস্য উন্মোচনে এককভাবে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেনদিল্লিতে মিছিল থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতারা আটক৪০ দিন পর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে তল্লাশি অভিযান বন্ধনাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহতপাকিস্তানের আকাশে ভারতের মিগ-২৫, ২৯ বছর পর সামনে এলো গোপন তথ্যবাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তারফুটবল থাকবে, থাকবে না মেসির সেই জাদুমেসির বিদায়ী ম্যাচ, আর্জেন্টিনা-বেনিন লড়াই দেখা যাবে যেভাবেজয়পুরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ, তিন যুবককে ফেরত পাঠাল বিজিবিলক্ষ্মীপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনপ্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন পাবনার ইমরান হুসাইননিখোঁজের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবসায়ী সুপ্রভাত মদকের পোড়ানো লাশ মিলল হলুদের ক্ষেতেলক্ষ্মীপুরে যুব অধিকার পরিষদের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কারাগারে

ফুটবল থাকবে, থাকবে না মেসির সেই জাদু

মেসি
ফুটবল থাকবে, থাকবে না মেসির সেই জাদু
সর্বশেষ উপলব্ধ: অক্টোবর ০৬, ২০২৬ ০৩:৫১ অপরাহ্ন

মেসির বিদায় মানে শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়

কিছু বিদায় আসে, যেগুলো মেনে নেয়া যায় না।
কিছু বিদায় আছে, যেগুলো শুধু একজন মানুষকে নয়—একটা সময়কে, একটা প্রজন্মকে, একটা অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে যায়।

লিওনেল মেসির বিদায় ঠিক তেমনই।

হয়তো একদিন প্রেমিকার হারানোর কষ্টও কিছুটা কমে যায়। জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়। নতুন মানুষ আসে, নতুন গল্প তৈরি হয়। কিন্তু মেসির খেলা দেখা যে শূন্যতা তৈরি করবে, সেটি কী দিয়ে পূরণ হবে?

কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না।
তিনি ছিলেন আমাদের শৈশবের অংশ।
কৈশোরের উত্তেজনা।
রাত জেগে ম্যাচ দেখার কারণ।
পরীক্ষার আগের রাতে লুকিয়ে খেলা দেখার অপরাধবোধ।
আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই ছিল অন্যরকম এক অনুভূতি।

মেসি বল পায়ে নিলে আমরা শুধু খেলা দেখতাম না—অপেক্ষা করতাম।

এইবার কী করবেন তিনি?

একজন, দুজন, তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যাবেন?
নাকি বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জাদুতে বল জালে পাঠাবেন?
নাকি এমন একটি পাস দেবেন, যেটা দেখে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকতে হবে?

মেসির পায়ে বল মানেই ছিল সম্ভাবনা।

রোজারিওর ছোট্ট সেই ছেলেটি একদিন এমন এক ফুটবলার হয়ে উঠলেন, যার খেলা দেখতে পুরো পৃথিবী থেমে যেত।

ছোটবেলায় শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা সেই শিশুটি জানত না, একদিন তাঁর বাঁ পা কোটি কোটি মানুষের আবেগের ভাষা হয়ে উঠবে।

বার্সেলোনার নীল-লাল জার্সিতে তাঁর প্রথম দিকের দিনগুলো থেকে শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে পৌঁছানো—মেসির পথটা ছিল অসংখ্য গল্পে ভরা।

কখনো তিনি একাই একটি ম্যাচ বদলে দিয়েছেন।
কখনো অসম্ভব কোণ থেকে গোল করেছেন।
কখনো পুরো রক্ষণভাগকে নিজের ড্রিবলিংয়ে অদৃশ্য করে দিয়েছেন।
আবার কখনো একটি ছোট্ট পাসেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন।

মেসির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল—তিনি ফুটবলকে কঠিন করে খেলেননি।
তিনি ফুটবলকে সহজ করে তুলেছিলেন।

বল পায়ে নিয়ে কয়েক গজ এগিয়ে যাওয়া, শরীরের সামান্য ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে ভুল পথে পাঠানো, তারপর গোল।

দেখতে সহজ।
কিন্তু সেই সহজ কাজটাই পৃথিবীর আর কেউ মেসির মতো করতে পারেননি।

কত রাত আমরা মেসির জন্য জেগেছি!

কতবার শেষ মিনিটে তাঁর পায়ে বল গেলে মনে হয়েছে—এবার কিছু একটা হবেই।

কতবার হতাশ হয়েছি।
কতবার আনন্দে চিৎকার করেছি।
কতবার মনে হয়েছে, এই মানুষটি হয়তো আবারও অসম্ভবকে সম্ভব করবেন।

মেসির ক্যারিয়ারে সবকিছু ছিল না।

ছিল ব্যর্থতা।
ছিল সমালোচনা।
ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে ট্রফি না জেতার দীর্ঘ আক্ষেপ।
ছিল কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের মঞ্চে হৃদয়ভাঙা পরাজয়।

কখনো তাঁকে বলা হয়েছে, ক্লাবে যা পারেন, দেশের হয়ে তা পারেন না।

কিন্তু মেসি থামেননি।

বারবার ফিরে এসেছেন।
আবার চেষ্টা করেছেন।
আবার হেরেছেন।
আবার দাঁড়িয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির অপেক্ষা শেষ হয়।

আর তারপর এলো ২০২২।

কাতারের সেই বিশ্বকাপ যেন মেসির ক্যারিয়ারের শেষ অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণ করার অপেক্ষায় ছিল।

সেই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ছিল উত্তেজনা।
প্রতিটি গোল ছিল ইতিহাস।
প্রতিটি উদযাপন ছিল কোটি মানুষের আনন্দ।

আর ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ফাইনাল—

সম্ভবত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ফাইনালগুলোর একটি।

একদিকে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে ফ্রান্স।
মাঠে মেসি।

শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিশ্বকাপ উঠল মেসির হাতে।

যে ট্রফির জন্য এত বছর অপেক্ষা করেছিলেন,
যে ট্রফি নিয়ে তাঁর সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল,
সেই বিশ্বকাপ অবশেষে তাঁর হাতে।

মেসি তখন আর শুধু একজন কিংবদন্তি ছিলেন না।
তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প।

বিশ্বকাপ জয়ের পর মনে হয়েছিল—এবার হয়তো তিনি নিশ্চিন্তে বিদায় নিতে পারবেন।

কিন্তু আমরা পারিনি।

আমরা চেয়েছি আরও।

আরও কয়েকটি গোল।
আরও কয়েকটি ফ্রি-কিক।
আরও কয়েকটি অবিশ্বাস্য পাস।
আরও কয়েকটি রাত, যেখানে ম্যাচের আগে শুধু একটি প্রশ্ন থাকবে—

মেসি খেলবেন তো?

আমরা জানতাম, বয়স বাড়ছে।

জানতাম, একদিন তাঁকে থামতেই হবে।

তবুও মন মানতে চায়নি।

কারণ যে মানুষটিকে প্রায় দুই দশক ধরে মাঠে দেখেছি, তাঁকে ছাড়া ফুটবল কল্পনা করা কঠিন।

একসময় হয়তো আমরা টিভির সামনে বসব।
আর্জেন্টিনার ম্যাচ হবে।
বল মাঠে গড়াবে।

কিন্তু মেসি থাকবেন না।

তখন হয়তো অভ্যাসবশত চোখ খুঁজবে ১০ নম্বর জার্সিটাকে।

ভাবব—এই তো, এখনই বলটা মেসির কাছে যাবে।

কিন্তু যাবে না।

কোনো ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সেই ছোট ছোট পায়ে ছুটে আসবেন না তিনি।

বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বাঁ পা দিয়ে বলটাকে পোস্টের কোণায় পাঠাবেন না।

ফ্রি-কিকের সময় আমরা আর সেই পরিচিত অপেক্ষায় থাকব না।

মনে হবে না—

এবার কি আবার জাদু হবে?

কারণ আমরা জানব, জাদুকর আর মাঠে নেই।

ফুটবল অবশ্য থেমে থাকবে না।

মেসির পরেও নতুন তারকা আসবে।

নতুন প্রজন্ম ফুটবল মাতাবে।
নতুন রেকর্ড হবে।
নতুন বিশ্বকাপ হবে।
নতুন কিংবদন্তির জন্ম হবে।

কিন্তু মেসির জায়গাটা অন্যরকম।

কারণ কিংবদন্তি অনেকেই হন,
কিন্তু একটি প্রজন্মের শৈশব হয়ে উঠতে পারেন খুব কম মানুষ।

আমাদের কাছে মেসি সেই মানুষ।

কারও কাছে তিনি বার্সেলোনার মেসি।
কারও কাছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
কারও কাছে বিশ্বকাপজয়ী মেসি।

আর কারও কাছে তিনি সেই ছোট্ট ছেলেটি, যার খেলা দেখে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল রাতগুলো কেটেছে।

মেসির বিদায়ের সঙ্গে তাই শুধু একটি ক্যারিয়ারের শেষ হবে না।

শেষ হবে একটি যুগ।

শেষ হবে এমন একটি অপেক্ষা—

‘মেসি বল পেয়েছেন, এখন কিছু একটা ঘটবেই।’

শেষ হবে ম্যাচের শেষ মিনিটে তাঁর পায়ে বল গেলে বুক ধড়ফড় করার অভ্যাস।

শেষ হবে গোলের পর দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকানো সেই চেনা দৃশ্য।

শেষ হবে সেই বাঁ পায়ের জাদু দেখার নিয়মিত সুযোগ।

তবে মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো তাঁর ট্রফির সংখ্যা নয়।

আটটি ব্যালন ডি’অর, অসংখ্য গোল, অসংখ্য রেকর্ড, ক্লাব ও দেশের হয়ে অসংখ্য শিরোপা—এসব ইতিহাসের পাতায় থাকবে।

কিন্তু মানুষের মনে থাকবে আরও কিছু।

থাকবে তাঁর খেলা দেখে আনন্দ পাওয়ার স্মৃতি।

থাকবে পরিবারের সঙ্গে বসে ম্যাচ দেখার রাত।

থাকবে বন্ধুদের সঙ্গে গোলের পর চিৎকার।

থাকবে হারের পর মন খারাপ।

থাকবে বিশ্বকাপের সেই রাত।

থাকবে ১০ নম্বর জার্সি।

থাকবে বাঁ পা।

আর থাকবে এক মানুষ, যিনি ফুটবলকে শুধু খেলেননি—ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন কোটি কোটি মানুষকে।

মেসির বিদায়ের দিনে তাই হয়তো কোনো বড় কথা বলার প্রয়োজন নেই।

শুধু দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো যায়।

রোজারিওর সেই ছেলেটিকে,
যে একদিন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

যে ধীরে ধীরে নিজের জাদু দিয়ে পুরো পৃথিবীকে মুগ্ধ করেছে।

যে আমাদের শিখিয়েছে—প্রতিভা অসাধারণ হতে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে পরিশ্রম, ধৈর্য আর বারবার ফিরে আসার মানসিকতা যোগ হলে একজন মানুষ কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।

বিদায়, লিওনেল মেসি।

তুমি হয়তো একদিন মাঠ ছাড়বে।

ফুটবল চলবে।
গোল হবে।
উল্লাস হবে।
নতুন নায়ক আসবে।

কিন্তু আমরা যারা তোমার যুগে ফুটবল দেখেছি, তারা জানব—

কিছু খেলোয়াড় খেলা খেলেন।

আর কিছু খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন একটি যুগের নাম।

তুমি ছিলে সেই যুগের নাম।

আর বহু বছর পরেও যখন কেউ জিজ্ঞেস করবে—

‘তোমরা মেসিকে খেলতে দেখেছ?’

আমরা হয়তো গর্ব করে শুধু একটি কথাই বলব—

হ্যাঁ।

আমরা মেসির যুগে ফুটবল দেখেছি।

যুবায়ের/মি.

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।