বেড়া পৌর মার্কেটসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন দোকানে নকল সিগারেট ও বিড়ির রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব পণ্য বিক্রি হলেও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া ও শাহজাদপুর থেকে রাতের আঁধারে নকল সিগারেট ও বিড়ি এনে বিক্রি করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উপেন দত্ত নামে এক দোকানি প্রতিদিন আসল সিগারেটের পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার নকল সিগারেট বিক্রি করেন। একইভাবে আরও পাঁচ-ছয়টি দোকানে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে নকল সিগারেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসল সিগারেটের চেয়ে প্রতি প্যাকেটে ১০ থেকে ২০ টাকা কম হওয়ায় অনেক দোকানি না বুঝেই এসব সিগারেট কিনছেন। পরে ক্রেতাদের সঙ্গে দামের বিষয় নিয়ে তাদের বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর ঘটনাও ঘটছে।
নকল সিগারেট বিক্রির অভিযোগে উপেন দত্ত, সাধন দাস ও কাদের ডাক্তার মোড়ের ফরিদ ট্রেডার্সের নাম স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, উপেন দত্ত একসময় প্রকাশ্যে আর নকল সিগারেট বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এরপরও তিনি নকল সিগারেট বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নকল সিগারেটের কারণে ক্রেতারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন। বাজারে ‘স্টার’, ‘নেভি’, ‘রয়েল’, ‘গোল্ডলিফ’ ও ‘মুন স্টার’ ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব পণ্য বিক্রির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নকল সিগারেট শনাক্তের ক্ষেত্রে প্যাকেটের হলোগ্রাম, ট্যাক্স স্ট্যাম্প, তামাকের ভরাট ও ফিল্টারের মানে অসঙ্গতি থাকতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে নকল নির্ধারণ করা যায় না।
এদিকে বেড়া উপজেলার নাকালিয়া বাজারে রংপুরের রতনা বিড়ির ডিলার সুকুমার কুন্ডু নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে বিড়ি বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রংপুর থেকে আনা এসব বিড়ি পাবনায় বিক্রির ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এক বস্তা বিড়ি আনতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হলেও তা প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তাছাড়া সিগারেট ও বিড়ি আসল না নকল, তা ল্যাব টেস্ট ছাড়া বোঝার উপায় নেই।’
পাবনা জেলা প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।