সৌদি আরবের আল-আহসায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পাঁচ শিশু সন্তান রয়েছে। শিশুদের মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্য একটি গাড়িতে থাকা দুই তরুণও নিহত হয়েছেন। আল-আহসার আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, একটি গাড়ি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় দুই গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর গাড়ির ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সৌদি রেড ক্রিসেন্টসহ জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়।
আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কটি আল-আহসার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। এটি আল-আহসা এলাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশটির ট্রাফিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে এটিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে ছিল হঠাৎ গাড়ির দিক পরিবর্তন।
সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রাফিক নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে আল-আহসার সর্বশেষ দুর্ঘটনা আবারও সামনে আনল সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি। বিশেষ করে হঠাৎ গাড়ির দিক পরিবর্তন যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, নয়জনের মৃত্যু তারই নির্মম উদাহরণ।
তবে গাড়িটি কেন হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল এবং নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় কী—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
আশিক/মি.
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।