কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু সময়ের স্রোত তাদের মুছে ফেলতে পারে না। বরং বছর পেরিয়ে গেলে তারা আরও গভীরভাবে জায়গা করে নেন মানুষের হৃদয়ে। সালমান শাহ তেমনই এক নাম—বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আলো থেমে গেছে বহু বছর আগে, অথচ সেই আলো আজও ছড়িয়ে আছে অগণিত দর্শকের স্মৃতিতে।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যাকে চলচ্চিত্রের পর্দা চিনেছে সালমান শাহ নামে। নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমায় তাঁর আগমন যেন বদলে দিয়েছিল চেনা এক সময়ের গল্প। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে শুরু হয়েছিল যে যাত্রা, অল্প সময়েই তা পরিণত হয় লাখো তরুণের ভালোবাসার গল্পে।
সালমান শাহ শুধু একজন নায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। তাঁর অভিনয়, পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল আলাদা এক আকর্ষণ। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মনে তৈরি করত অন্যরকম আবেগ। খুব অল্প সময়ে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা আজও বাংলা চলচ্চিত্রে বিরল এক অধ্যায় হয়ে আছে।
কিন্তু সেই উজ্জ্বল পথচলা থেমে যায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে চলে যান না ফেরার দেশে। হঠাৎ সেই বিদায়ে থমকে গিয়েছিল অসংখ্য ভক্তের হৃদয়। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার রূপও বদলে গেছে—শুধু বদলায়নি সালমান শাহকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা।
আজ তাঁর জন্মদিন। এই দিনে প্রিয় নায়ককে ঘিরে ফিরে আসে পুরোনো দিনের অসংখ্য স্মৃতি। পর্দায় তাঁর সেই হাসি, সংলাপ কিংবা কোনো সিনেমার দৃশ্য—সবকিছুই যেন মনে করিয়ে দেয়, তিনি নেই, অথচ কোথাও যেন এখনো আছেন।
সালমান শাহর জীবন ছিল ছোট, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গল্পটি দীর্ঘ। তাই জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ মানে শুধু একজন প্রয়াত অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়; স্মরণ করা বাংলা চলচ্চিত্রের এমন এক সময়কে, যখন একজন তরুণ নায়ক কোটি মানুষের স্বপ্নের অংশ হয়ে উঠেছিলেন।
সালমান শাহ নেই—কিন্তু তাঁর জন্য অপেক্ষা করা সেই ভালোবাসা আজও শেষ হয়নি। জন্মদিনে তাই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় স্মরণ, বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহকে।
যুবায়ের/মি.
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।