সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, সলঙ্গা ও রায়গঞ্জ এলাকায় বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। গত দুই মাসে এসব এলাকায় অর্ধশতাধিক গরু চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গরু পালনকারী পরিবারগুলো।
চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন গ্রামে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবার কোথাও বাঁশি, টর্চলাইট ও লাঠি হাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন দেখলে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে।
তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিকাসা মহল্লায় একটি যৌথ খামার থেকে একসঙ্গে আটটি গরু চুরির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি হওয়া গরুগুলোর মূল্য কয়েক লাখ টাকা। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরের দল খামারে ঢুকে গরুগুলো নিয়ে যায়। সকালে খামারে গিয়ে গরু না পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব এলাকায় বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস গরু পালন। ঋণ কিংবা সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে গরু কিনে খামার গড়ে তুলেছেন অনেকে। একসঙ্গে একাধিক গরু চুরি হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ছেন খামারিরা। চুরির আশঙ্কায় অনেকে এখন খোলা গোয়ালঘরের পরিবর্তে বসতঘরের কাছাকাছি গরু রাখছেন।
একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ গরুর সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ধারণা, এসব ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। দ্রুত চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।