জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা এবং মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এই পরিকল্পনা এখনও প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবির কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি, আরএসও ও আরসার মধ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওপার থেকে ছিটকে আসা গুলি এবং মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে 'পুশ-ইন'-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্কতায় প্রতিটি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে। তবে বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক তালিকা পাঠালে জাতীয়তা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বর্তমান সেনা আইন অনুযায়ী বিচারের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে আইনানুগভাবে বিচার সম্পন্ন হবে এবং একই অপরাধে সিভিল ও সামরিক, দুই আইনে পৃথক বিচার করার সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।