দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আটতলা বাড়িতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান চালায়।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণের জন্য এই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলামের আবেদনের পর বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ২০১৭ সালে অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবার মালয়েশিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেন। পাশাপাশি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া দুদকের দাবি, জিয়াউল আহসান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংক হিসাবে যথাক্রমে প্রায় ২০ কোটি ও ৭৫ কোটি টাকা, মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকে ৭৫ কোটি টাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক হিসাবেও বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে দুদক।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক গুম ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ফোনে আড়িপাতা এবং ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড ও ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জিয়াউল আহসান, তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং তাঁদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।